আওয়ামী লীগের কামব্যাক শুধু দলের জন্য নয়, দেশের সুস্থ রাজনীতির জন্যও অপরিহার্য
রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের সহনশীলতা যতটা, তার চেয়ে সাধারণত প্রতিক্রিয়া অনেকটাই কম হয়। অন্যদিকে, দেশের ৩০-৩২ শতাংশ শহুরে এবং শিক্ষিত লোক সাধারণত দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি আর সংস্কৃতির গতি নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখে। বর্তমানে সমাজমাধ্যমের এক নতুন দলও এই ৩০-৩২ শতাংশের সঙ্গে যোগ হয়ে দলটিকে আরও কিছুটা শক্তিশালী করেছে।
তবে সমস্যা হলো, এই দলের মধ্যে কোনো ঐকমত্য নেই। এরা কখনও কোনো বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে একমত হতে পেরেছে, এমন ইতিহাস নেই। কিন্তু তারপরও এদের প্রভাবশালী মতকেই কখনো কখনো জাতীয় ঐক্যমত্য বলে তারা চালিয়ে দেয়। বলার সময় বলে- এই মতটাই জনগণের মত! কিন্তু বাস্তবে বাঙালি কখনও ঐক্যবদ্ধ ছিল না; এমনকি ১৯৭১ সালেও তারা একজোট হতে পারেনি। কেউ স্বাধীনতা চেয়েছে, কেউ চায়নি, কেউ জোয়ারে গা ভাসিয়েছে, আবার কেউ চুপ করে থেকে নিরপেক্ষতার ভান করেছে। বাঙালির চরিত্রে আরও একটি সত্য লুকিয়ে আছে। বাঙালি বিস্মৃতিপ্রবণ জাতি। অতীত এবং বর্তমানকে মূল্যায়নে তার আছে নিজস্ব গতিশীল একটি ধরণ।
এই সেই বাঙালি, যে ফজলুল হক সাহেবকে প্রাণপ্রিয় নেতা মানে, আবার ১৯৪৬ সালে তাঁকে বর্জন করে মুসলিম লীগকে বুকে টেনে নেয়। আবার সেই বাঙালিই মাত্র আট বছর পর ১৯৫২-তে মুসলিম লীগকে এমনভাবে বর্জন করে যে, ওই দল চিরতরে হারিয়ে যায় বাংলা থেকে। এরা ১৯৭২-এ সব হয়ে যায় আওয়ামী লীগের, আবার ১৯৭৫-এ হয়ে যায় জিয়া ভক্ত। সেই বাঙালিই আবার এরশাদের সময়ে জাতীয় পার্টির পতাকা নিয়ে রাস্তায় নামে। শেখ হাসিনার সময়ে ওষুধ খাওয়ার লোক পাওয়া যায় না ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরে- সব যেন জয় বাংলা আর বঙ্গবন্ধুর স্লোগানে মুখরিত একজোটের সত্ত্বা; আবার লাল জুলাইও সেই জাতীয় ঐক্যমত্যেরই বহিঃপ্রকাশ তাদের একসময়ের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার বিরোধিতায়।

বাংলাদেশের ভোট-পরবর্তী হিসাব এবং হিংসা কয়েক দশকের ঐতিহ্য। আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টির আমলে সেই চিত্র অপরিবর্তিত থেকেছে। প্রতিপক্ষের পার্টি অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল সব আমলেই দেখা গিয়েছে। পরাজিত দলের পরিচিত দাবাং কর্মীদের গ্রামছাড়া করাও নৈমিত্তিক প্রবণতা ছিল। এলাকা দখলের মধ্য দিয়ে প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠার কারণে হিংসার কম-বেশি প্রকোপ বরাবরই দৃশ্যমান ছিল। ভোটের আগের-পরের হিংস্রতা, খুন-খারাবি সবসময় বিদ্যমান ছিল। তবে সবকিছু ছাপিয়ে গিয়েছিল শেখ হাসিনার পতন এবং পলায়নের পর। আওয়ামী লীগ, যুব লীগ, ছাত্রলীগ এবং অঙ্গ সংগঠনগুলোর তৃণমূল স্তরের নেতা-কর্মীদের দলবাজি, তেলবাজি এবং অবিরাম অনাচারের কারণে সাধারণ মানুষের রাগ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ঘটেছিল।
স্থানীয় পর্যায়ের এসব নেতা-কর্মীর দুর্নীতি ও অত্যাচারে সাধারণ মানুষ কতটা ত্যাক্ত-বিরক্ত ছিল, ছোট ছোট লাভাস্রোত তারই প্রমাণ। জনরোষে ফেটে পড়ার এমন ঢালাও উদাহরণ এর আগে এমনভাবে কখনও দেখা যায়নি। ১৭ বছর একটানা ক্ষমতায় থাকার পর আওয়ামী লীগের ঠাসবুনট সংগঠন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল। আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের এক বিরাট অংশ রাতারাতি ঘর-বাড়ি ছাড়া হয়েছিল। শেখ হাসিনা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন। বিপদ কত ভয়ংকর- সম্ভবত এই প্রথম তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। প্রাণরক্ষায় ক্ষমতা ছেড়ে, দেশ ছেড়ে ভিন্ন একটি দেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
আসলে যেকোনো শাসনকাল দীর্ঘদিন চলতে থাকলে ক্ষমতার অপরিসীম আলো শাসককে অন্ধ করে দেয়। ক্ষমতার আশেপাশে জন্ম নেওয়া তাবেদারের দল তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় জনসাধারণ তথা গণসমস্যা থেকে। যত সময় যায়, ততই বাড়তে থাকে শাসককে ঘেরা তাবেদার ও তাদের ঘিরে গজিয়ে ওঠা তাবেদারের দল। তারা ক্ষমতাবানদের কাছ থেকে চুইয়ে পড়া ক্ষমতার রসের লোভে নিরন্তন আনুগত্য প্রদর্শন করে এবং শাসকের চোখে ঠুলি পরিয়ে রাখে। ফলে শাসক ভুলে থাকেন যে, এই তাবেদারি গোষ্ঠী এবং তাদের বানানো জনমত বাস্তব নয়।
জনগণের থেকে বিচ্ছিন্নতা, প্রশাসনের দুর্নীতি আর শাসকের ক্ষমতার অপব্যবহার পাঁচ শ’ বছরের রোমান সাম্রাজ্যেরও পতন ঘটিয়েছিল। ক্যাডার-সংস্কৃতি, জনবিচ্ছিন্নতা, বাস্তবতাকে ধামাচাপা এবং বিনা ভোটের সংস্কৃতি স্থাপন করে গায়ের জোর আর ঔদ্ধত্যে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার প্রবণতা শেখ হাসিনার শাসনকে উপড়ে ফেলার পথ জুগিয়েছে। তিনি তা আগে বুঝতে পারেননি বলেই শেষ মুহূর্তে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন।
অতীত থেকে কোনো শাসকই শিক্ষা নেন না। কারণ তার সর্বগ্রাসী ক্ষমতা সেই শিক্ষার কাছে তাকে পৌঁছাতে দেয় না। এই সর্বগ্রাসী ক্ষমতাই দুর্নীতির জন্ম দেয়। ক্ষমতা যতটা ব্যাপক, দুর্নীতিও ততটাই সর্বগ্রাসী হয়। ক্ষমতার অন্ধত্বই হোক, তাবেদারদের পরিবেষ্টনই হোক কিংবা জনবিচ্ছিন্নতার কারণেই হোক- আওয়ামী লীগ সরকার ভোটবিহীন পরিবেশে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করে নিজেদের কবরের পেরেক নিজেরাই পুঁতেছে। তাই আজ আওয়ামী লীগ তার ঘরে নেই, শেখ হাসিনা তার দেশে নেই। কিন্তু ওই যে, বাঙালি বিস্মৃতিপ্রবণ জাতি- কাল যা ছিল তার দহনের স্মৃতি, আজ হয়ে যায় তারই সমবেদনার ছাতি।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করেছে। একই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকারও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার আদেশ বহাল রেখেছে। কার্যক্রম পরিচালনা করলে শাস্তির বিধানসংবলিত সংশোধনী এনে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশটিকে বিএনপি সরকার আইনে পরিণত করেছে। দলের ওপর ভর করে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী লুটেরা, স্বৈরাচারী এবং ফ্যাসিস্ট হয়েছিল- এমন ঢালাও অভিযোগ আছে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দলটি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি পারিবারিক শাসন কায়েম করেছিল- এ অভিযোগও আছে। দলটির অনেক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, দুর্নীতি এবং লুটপাটের মামলা আছে। এসব অভিযোগ এখনো তদন্ত করে প্রমাণ করা হয়নি এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে। কিন্তু সেই আন্দোলন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জনগণের পক্ষ থেকে কোনো গণরায় ছিল না। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় এবং নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে দূরে রাখায় আওয়ামী লীগকে জনগণের মুখোমুখি করার কোনো সুযোগও দেওয়া হয়নি। দল হিসেবে নির্বাচন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে কোনো রাজনৈতিক দলকে বাইরে রাখার সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ‘গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দলটির অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছেন, অনেকেই আত্মগোপনে আছেন, অনেকেই বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন, অনেকের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। একমাত্র প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে মামলা পরিচালনা করে রায় শুনিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। সেই মামলা পরিচালনা, সময়, প্রক্রিয়া এবং আইনগত জটিলতা নিয়ে বিস্তর সমালোচনা আছে। এমনকি ট্রাইব্যুনালের গঠনপ্রক্রিয়া ও নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
রাজনীতির গতি বন্ধ করার এমন রাজনীতির মাঝে আরও একটি বাস্তবতার গন্ধ বাংলাদেশের বাতাসে ভাসছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী এখনো পার হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ফেরার ঘণ্টা শোনা যাচ্ছে চারদিকে। নিষিদ্ধ দলের কোনো সাংগঠনিক প্রতিনিধিত্ব নেই, মিডিয়ায়-টকশোতে ওই দলের পরিচয়ে কাউকে হাজির হতে দেখা যায় না, আইনি সংকট আছে, মবের ভয় আছে। ৩৬ শে জুলাইয়ের উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া, আশায় আপ্লুত হওয়া, হতাশায় বিমূঢ় হওয়া কিংবা আগে-পরের অন্যায়ে বিক্ষুব্ধ হওয়া পক্ষগুলো এখনো গণ-অভ্যুত্থানের আবহে আচ্ছন্ন আছে। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে নাগরিক সমাজের পক্ষে নির্মোহ আলোচনা করা সম্ভব নয়। কিন্তু তারপরও আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলাপ-আলোচনা থেমে নেই।
আওয়ামী লীগ কোথাও নেই; তারপরও আওয়ামী লীগ আছে। দেশের একটি প্রধান দল এত বছর ধরে রাজনীতি করেছে, ক্ষমতায় ছিল অনেক বছর- আইন করে কিংবা প্রশাসনিক আদেশে তাকে রাজনীতির মাঠ থেকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ইয়াহিয়া খানের সামরিক সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছিল। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শেখ হাসিনার সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল। ফলাফল কী দাঁড়িয়েছিল তা সবারই জানা! আদর্শিক সামর্থ্যরে বাইরে গিয়ে আবেগের জোরেও যে সংগঠন টিকে যায়, তা-ও এই বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের জাতীয় পার্টি দেখিয়েছে। গণ আন্দোলনে স্বৈরাচারী এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর একই নাগরিক তাকে তিন মাসের মাথায় পার্লামেন্টের পাঁচটি আসনে জিতিয়েছিল।
আওয়ামী লীগে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে ফিরতে চাওয়া নেতা-কর্মীদের বড় হিস্যা আছে। গত ৫৫ বছরে সেই চেতনা অতিরিক্ত বেচা-কেনা হলেও এখনো তা পুরোপুরি অবমূল্যায়নের শিকার হয়ে যায়নি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকার সঙ্গে দাসখতে ভরা একটি বাণিজ্যচুক্তি, দক্ষিণপন্থার ধর্মীয় শক্তির উত্থানে সমাজে উদারনৈতিক শক্তির রাজনৈতিক চাহিদা তৈরি, অর্থনীতির পুনর্গঠনে ধীরগতি, মূল্যস্ফীতি এবং বেকারত্ব বৃদ্ধি- এ সবকিছু আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার চাহিদা বৃদ্ধিতে কাজ করবে, এটা প্রায় নিশ্চিত। নতুনদের ভালো পারফরম্যান্স ব্যতীত পুরনোদের ফেরা বন্ধ করা যাবে না।
আগেই ভালো ছিলাম- এই অনুভ‚তি যতই গ্রাস করবে মানুষকে, ততই আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখাবে সমাজকে। সেই সুযোগটাই তখন আওয়ামী লীগের লোকেরা গ্রহণ করতে চাইবে এবং সাহস করে ঝুঁকি নিবে। আধুনিক জার্মানির রূপকার বিসমার্কের একটি অমর উক্তি আছে- ‘রাজনীতি সম্ভাবনার শিল্প।’ তাঁর এমন উক্তি বাংলাদেশের জন্য আরও বেশি প্রযোজ্য। এই সম্ভাবনার শক্তিকে বাঁধ দিয়ে বেঁধে রাখা যাবে না, আইন দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা যাবে না, আদেশ জারি করে মুছে ফেলা যাবে না, রাজনীতি করে রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করা যাবে না। রাজনীতিকে রাজনীতির মাঠেই ছেড়ে দিতে হবে, জনগণের দরবারেই বিচারে পাঠাতে হবে।
দেশে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করবে কি করবে না, তা নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগ এবং দেশের জনগণ; অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তি নয়। যত তাড়াতাড়ি সরকার এবং সরকারি দল এই উপলব্ধিতে ফিরতে ব্যর্থ হবে, তত তাড়াতাড়ি আওয়ামী লীগ ভেতরে ভেতরে ফিরে আসার মাটি শক্ত করতে সমর্থ হবে।
রাজনীতিতে দক্ষিণপন্থী জামায়াতের অস্তিত্ব এবং গুরুত্ব আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার কাজটি ত্বরান্বিত করবে। কেননা, প্রথাগত রাজনীতিতে জামায়াত এবং বিএনপির রাজনৈতিক মতবাদে পার্থক্য খুবই কম। তারা দু’জনেই পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রাজনীতি করেছে দীর্ঘদিন ধরে। এদের দু’জনেরই মাঠের আদর্শিক প্রতিদ্বন্দ্বী একে অপরে নয়; বরং দু’জনেরই আদর্শিক প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ। তাই জামায়াতের রাজনীতি ঠেকাতে আওয়ামী লীগকেই বেছে নিতে হবে, এমনটা নিশ্চিতভাবেই জানে বিএনপি। সেদিক থেকে বিএনপির সামনে শাঁখের করাত। বেশি মুক্তিযোদ্ধা সেজে জামায়াতের বিরোধিতা যত করবে, বিএনপির তত ক্ষতি হবে ঘরে-বাইরে। কেননা, ওই কাজটি আওয়ামী লীগই করতে পারে বলে জনগণের কাছে দীর্ঘদিনের উদাহরণ রয়েছে। তার নেতা-কর্মীদের মনেও একই ধারণা রয়েছে।
অন্যদিকে, জামায়াতকে ঠেকাতে ব্যর্থ হলে জামায়াত ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে পারে- এমন সম্ভাবনার সম্মুখীন হতে পারে বিএনপি। তাই তার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনকেই স্বাগতম জানাতে হবে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজনীতি ফিরিয়ে দেওয়ার একটি বৈশ্বিক চাপ বিএনপি সরকারের ওপর অনবরতই থাকবে।
সব মিলিয়ে দুইয়ে-দুইয়ে চার হওয়ার মতো করে বলা যায়- আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবার ফিরে আসবে আজ অথবা আগামীকাল। সেই ফিরে আসাটা শুধু আওয়ামী লীগের জন্য নয়, তা সমানভাবে প্রয়োজন দেশের সুস্থ রাজনীতির স্বার্থেও। এটা কতটা তাড়াতাড়ি হবে, তা অবশ্য নির্ভর করবে বিএনপি সরকারের সফলতা-ব্যর্থতা, বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক চাপের ধরনের ওপর।